নিউজডেস্ক:
সোমবার রাত প্রায় ৯টা। ইসলামপুর মহকুমা হাসপাতালের আইসিইউর নিস্তব্ধতা ভেঙে এল এক মর্মান্তিক খবর—চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করল ২২ বছরের তরুণ নুর আজম। গুঞ্জরিয়ার নেহালপুর গ্রামের এই যুবকের মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের নয়, শোকের ছায়া নামিয়েছে গোটা এলাকায়।
পরিবারের দাবি, দিনের শুরু থেকেই নিখোঁজ ছিল নুর। উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠায় কেটেছে সারাদিন। রাতের অন্ধকারে হঠাৎই তাকে বাড়ির পিছনে ফেলে রেখে যায় অজ্ঞাত ব্যক্তিরা। আহত, আতঙ্কিত অবস্থায় বাড়িতে ফিরে সে বারবার বলতে থাকে—“আমাকে মেরে ফেলবে… আমাকে বাঁচাও…”। সেই আর্তনাদ আজও কানে বাজছে পরিবারের সদস্যদের।
তড়িঘড়ি করে তাকে ইসলামপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু সময় যেন সেদিন খুব দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছিল। অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়, তবুও শেষ রক্ষা হল না। নিভে গেল এক তরুণ জীবনের প্রদীপ।
অভিযোগ উঠেছে, নুর আজম সিপিআইএম-এর সক্রিয় কর্মী ছিলেন এবং তাকে শাসকদলের লোকজন মারধর ও মানসিক চাপ দিচ্ছিল দল ছাড়ার জন্য। এই মৃত্যুকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে গুঞ্জরিয়া ও ইসলামপুর জুড়ে। হাসপাতালের সামনে ভিড় জমাতে শুরু করেন সিপিআইএম কর্মী-সমর্থকরা।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন ইসলামপুর বিধানসভা কেন্দ্রের সিপিআইএম প্রার্থী সামি খান। তিনি বলেন, “নুর আজম আমাদের দলের একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী ছিল। মনোনয়ন জমা দেওয়া থেকে শুরু করে প্রচারের প্রথম দিনগুলোতে সে সক্রিয় ছিল। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে সে প্রচারে আসছিল না। আমরা জানতে পেরেছিলাম, তাকে মানসিক চাপ দেওয়া হচ্ছিল।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “তৃণমূল কংগ্রেস মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিচ্ছে। ভোটের মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে এই মৃত্যু প্রমাণ করে দিচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পরিবেশ নেই। আমরা এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”
একটি তরুণ প্রাণের এভাবে ঝরে যাওয়া শুধুই একটি রাজনৈতিক ঘটনা নয়—এ এক মায়ের বুক খালি হয়ে যাওয়ার গল্প, এক পরিবারের স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার ইতিহাস। নুর আজমের শেষ আর্তনাদ যেন প্রশ্ন ছুড়ে দিচ্ছে—গণতন্ত্রের মাটিতে আর কত প্রাণ ঝরবে?