প্রতিশ্রুতিই সার! বাম আমলে মাটি পড়লেও তৃণমূলের জমানায় নরককুণ্ড করণদীঘির গোপলা গ্রাম, ক্ষোভে ফুটছেন বাসিন্দারা
করণদীঘি: ভোটের মুখে প্রতিশ্রুতির বন্যা, আর ভোট মিটলেই নিখোঁজ জনপ্রতিনিধিরা। তৃণমূল জমানায় এটাই যেন দস্তুর হয়ে দাঁড়িয়েছে উত্তর দিনাজপুর জেলার করণদীঘি ব্লকের রসাখোয়া ১ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার গোপলা গ্রামে। সামান্য ভারী বৃষ্টিতেই গ্রামের একমাত্র ঢোকার রাস্তাটি এখন জলের তলায়। দীর্ঘদিন ধরে বেহাল হয়ে পড়ে থাকা এই রাস্তার কারণে চরম দুর্ভোগের শিকার গ্রামের প্রায় ১০০টি পরিবার। অথচ, এই এলাকাটি খোদ করণদীঘি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি নেহা আজমের খাসতালুক বলেই পরিচিত। আর তাতেই ক্ষোভের আগুন জ্বলছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। তাঁদের সাফ কথা, রাজ্যে পালাবদলের পর বিজেপি ক্ষমতায় এলেও গোপলা গ্রামের ভাগ্যে কেবল বঞ্চনাই জুটেছে। গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, বিগত বামফ্রন্ট সরকারের আমলে এই রাস্তায় অন্তত মাটি ফেলার কাজ হয়েছিল। ঘাসফুল শিবিরের পরিচালিত গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে শুরু করে পঞ্চায়েত সমিতি— দীর্ঘ শাসনে এই রাস্তায় ‘এক ঝুড়ি মাটিও’ ফেলার সৌজন্য দেখায়নি। ফলে বছরের পর বছর ধরে রাস্তাটি সংস্কারের অভাবে আজ মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।
“ভোটের সময় রাজনৈতিক দলের নেতারা আসে, বড় বড় আশ্বাস দেয়। কিন্তু ভোট মিটে গেলেই কাজের কাজ কিছুই হয় না। তৃণমূল সরকারের আমলে এই রাস্তার হাল সবচেয়ে বেহাল হয়ে পড়েছে বলছেন মালেক আকতার।
বর্ষা আসতেই গোপলা গ্রামের জনজীবন কার্যত স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। জমে থাকা জলের কারণে গ্রামের খুদে পড়ুয়ারা স্কুলে যেতে পারছে না। ফলে ব্যাহত হচ্ছে তাদের পড়াশোনা। শুধু তাই নয়, এই গ্রামের বহু বেকার যুবক টোটো চালিয়ে কোনো রকমে সংসার নির্বাহ করেন। কিন্তু রাস্তায় হাঁটু সমান জল আর কাদার কারণে টোটো চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন ওই যুবকেরা, ঘরে ঘরে দেখা দিয়েছে অনাহার ও চরম আর্থিক সংকট। বাসিন্দাদের দাবি, এই জমা জল বা বন্যার জল শুকোতে শুকোতে আশ্বিন-কার্তিক মাস কেটে যায়। অর্থাৎ, বছরের একটা বড় সময় এই নরকযন্ত্রণা ভোগ করতে হয় তাঁদের।
রাস্তা ভাঙা ও জলমগ্ন হওয়ার সামাজিক প্রভাব কতটা মারাত্মক হতে পারে, তা উঠে এল গ্রামের বাসিন্দা কুস্তুর হকের কথায়। তিনি ক্ষোভের সাথে জানান
“গ্রামে ঢোকার রাস্তা এতটাই খারাপ যে, আত্মীয়-স্বজনরা আসতে চান না। এমনকি রাস্তার এই নরককুণ্ড দশা দেখে গ্রামের মেয়েদের বিয়ে দেওয়ার জন্য ভালো জামাই খুঁজে পাওয়াও মুশকিল হয়ে পড়েছে। কোনো পরিবার এই গ্রামে সম্বন্ধ করতে আসতে চাইছে না।
করণদীঘি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি নেহা আজমের নিজের এলাকায় শাসকদলের এই চরম উদাসীনতা নিয়ে স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভোটের সময় নেহা আজম সহ তৃণমূল নেতারা রাস্তা মেরামতের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট ব্যাঙ্ক ভরিয়েছিলেন। কিন্তু জেতার পর আর তাঁদের এলাকায় দেখা মেলেনি।
উন্নয়নের ঢাক পেটানো তৃণমূল সরকারের আমলে একটি আস্ত গ্রাম কীভাবে বছরের পর বছর এভাবে যাতায়াতের ন্যূনতম অধিকার থেকে বঞ্চিত থাকে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছে বিরোধী শিবিরও। গ্রামবাসীদের হুঁশিয়ারি, দ্রুত এই রাস্তার সমস্যার সমাধান না হলে আগামী দিনে তাঁরা বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন।

By nb24x7

দিনদুনিয়ার খাসখবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *