চোপড়া: মানবতা যে এখনও বেঁচে আছে, তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রাখলেন উত্তর দিনাজপুরের চোপড়া থানার মুন্সিগছ গ্রামের বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম। দীর্ঘ এক মাস ধরে পার্শ্ববর্তী বিহারের এক ভবঘুরে যুবককে নিজের বাড়িতে আশ্রয় দিয়ে পরিবারের সদস্যের মতোই যত্ন করেন তিনি। পাশাপাশি চালিয়ে যান যুবকের পরিবারের সন্ধান।
জানা যায়, অসহায় অবস্থায় ওই যুবককে দেখতে পেয়ে জহিরুল তাঁকে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন। এরপর প্রায় এক মাস ধরে তাঁর থাকা-খাওয়া ও দেখাশোনার দায়িত্ব নেন। একইসঙ্গে বিভিন্নভাবে যুবকের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চালিয়ে যান।
অবশেষে দীর্ঘ খোঁজাখুঁজির পর যুবকের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম হন জহিরুল। বুধবার ওই যুবককে তাঁর বাবার হাতে তুলে দেন তিনি।
জহিরুল বলেন, “বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি ও যোগাযোগের পর অবশেষে তাঁর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। নিজের বাবার হাতে তাঁর সন্তানকে তুলে দিতে পেরে আমি গর্বিত।”
দীর্ঘদিন পর সন্তানকে ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন যুবকের বাবা। চোখের জলে তিনি বলেন, “বাবার কাছে সন্তানই পৃথিবী। আজ আমার সেই পৃথিবীকে আবার নিজের কাছে ফিরে পেলাম।”
জহিরুল ইসলামের মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি আরও বলেন, “জহিরুল ইসলামের মতো সন্তান যেন ঘরে ঘরে জন্ম নেয়। তাঁর এই মানবিক উদ্যোগ আমরা কোনওদিন ভুলব না।”