করণদীঘি, উত্তর দিনাজপুর: বর্ষার সামান্য বৃষ্টিতেই জলমগ্ন হয়ে পড়ছে করণদীঘি ব্লকের রসাখোয়া-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের গোপলা গ্রামের একমাত্র প্রবেশপথ। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন প্রায় ১০০টি পরিবারের বাসিন্দারা। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভোটের সময় একের পর এক প্রতিশ্রুতি মিললেও ভোট শেষ হলেই জনপ্রতিনিধিদের আর দেখা মেলে না।
গ্রামবাসীদের দাবি, বামফ্রন্ট আমলে অন্তত এই রাস্তায় মাটি ফেলার কাজ হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল পরিচালিত গ্রাম পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতির আমলে রাস্তা সংস্কারের কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে বর্ষা এলেই রাস্তা কার্যত জল ও কাদায় ডুবে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা মালেক আখতার জানান, ভোটের আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা রাস্তা মেরামতের আশ্বাস দিলেও ভোটের পর সেই প্রতিশ্রুতি আর বাস্তবায়িত হয় না। তাঁর অভিযোগ, বর্তমান সরকারের আমলেই রাস্তার অবস্থা সবচেয়ে খারাপ হয়েছে।
রাস্তার দুরবস্থার প্রভাব পড়েছে শিক্ষা ও জীবিকাতেও। হাঁটুসমান জল ও কাদার কারণে স্কুলে যেতে পারছে না পড়ুয়ারা। টোটো চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করা বহু যুবকও কাজ করতে পারছেন না। গ্রামবাসীদের দাবি, বর্ষার জল শুকোতে আশ্বিন-কার্তিক পর্যন্ত সময় লেগে যায়, ফলে বছরের দীর্ঘ সময় তাঁদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
গ্রামের বাসিন্দা কুস্তুর হক জানান, রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে আত্মীয়-স্বজনও গ্রামে আসতে চান না। এমনকি মেয়েদের বিয়ের সম্বন্ধ আনতেও সমস্যা হচ্ছে, কারণ কেউ এই গ্রামে আসতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, করণদীঘি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি নেহা আজমের এলাকার মধ্যেই এই রাস্তার এমন অবস্থা থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাঁদের দাবি, দ্রুত রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটবেন গ্রামবাসীরা।