প্রথম দফার মতোই দ্বিতীয় দফাতেও রেকর্ড ভোটদানের সাক্ষী থাকল পশ্চিমবঙ্গ। উপচে পড়া ভিড়, দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দেওয়া—সব মিলিয়ে গণতন্ত্রের উৎসবে অংশ নিলেন আট থেকে আশি বয়সের মানুষ। কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নিরাপত্তার মধ্যেও ভোটারদের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় দফায় ভোট পড়েছে ৯২.৫৬ শতাংশ। দুই দফা মিলিয়ে গড় ভোটের হার প্রায় ৯২.৮৭ শতাংশ, যা অতীতের বহু রেকর্ড ছাপিয়ে গেছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সর্বোচ্চ ভোট পড়েছিল ৮৪.৪৬ শতাংশ—যে নির্বাচনে দীর্ঘ ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতায় আসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবারের ভোট সেই রেকর্ডকেও অনেকটাই ছাড়িয়ে গেছে।

জেলার ভিত্তিতে ভোটের হার বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, পূর্ব বর্ধমানে সর্বোচ্চ ৯৩.৭৯ শতাংশ ভোট পড়েছে। তার পরে রয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা (৯৩.১৫%), উত্তর ২৪ পরগনা (৯২.৮২%), হাওড়া (৯২.৫২%), নদিয়া (৯২.০৭%) এবং হুগলি (৯১.৯৩%)। কলকাতা উত্তর কেন্দ্রে ভোট পড়েছে ৮৯.৩৫% এবং কলকাতা দক্ষিণে ৮৭.৮৪%। সবার নজরে থাকা ভবানীপুর কেন্দ্রে ভোটের হার ৮৬.৭৪ শতাংশ।

দিনের শুরু থেকেই ভোটদানের গতি ছিল দ্রুত। সকাল ৯টা পর্যন্ত ১৮.৩৯%, ১১টা পর্যন্ত ৩৯.৯৭%, দুপুর ১টা পর্যন্ত ৬১.১১%, বিকেল ৩টে পর্যন্ত ৭৮.৬৮% এবং বিকেল ৫টা পর্যন্ত ৮৯.৯৯% ভোট পড়ে। শেষ পর্যন্ত তা পৌঁছায় ৯২.৫৬ শতাংশে।

প্রধানমন্ত্রীও এই উচ্চ ভোটদানের হারকে স্বাগত জানিয়ে রাজ্যের ভোটারদের সচেতনতার প্রশংসা করেছেন।

এত বিপুল ভোটদানের পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—কার দিকে যাবে জনমত? এবারও কি নবান্নেই গড়ে উঠবে সরকার, নাকি পরিবর্তনের নতুন অধ্যায় শুরু হবে অন্য কোথাও থেকে? ফলাফল এখন ইভিএমে বন্দি। বাক্স খোলার পরই জানা যাবে, কোন রাজনৈতিক দল উচ্ছ্বাসে ভাসবে আর কার ভাগ্যে অপেক্ষা করছে হতাশা।

 

By nb24x7

দিনদুনিয়ার খাসখবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *