ইসলামপুর: রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর উত্তর দিনাজপুর জেলার চোপড়া ব্লকে একের পর এক পুরনো রাজনৈতিক মামলার নথি সামনে আসতেই আলোচনায় উঠে এসেছে বিরোধী দলগুলির ওপর তৎকালীন সরকারের ‘অত্যাচার ও দমননীতি’র অভিযোগ। দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিরোধী কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছিল বলে দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহলে।
বৃহস্পতিবার চোপড়া ব্লকের বিভিন্ন এলাকা থেকে মোট ৬৭ জন রাজনৈতিক কর্মী-সমর্থক ইসলামপুর আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে সিপিএমের ৩৬ জন, কংগ্রেসের ২০ জন এবং তৃণমূল কংগ্রেসের ১১ জন রয়েছেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের দাবি, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে বিরোধী কণ্ঠস্বর দমাতে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছিল। বহু ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধী কর্মীদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। সরকার পরিবর্তনের পর প্রশাসন পুরনো মামলাগুলিকে সক্রিয়ভাবে কার্যকর করতে শুরু করায় অভিযুক্তদের একাংশ আদালতের দ্বারস্থ হন।
সিপিএম ও কংগ্রেস নেতৃত্বের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিরোধী রাজনীতি করলেই পুলিশি হয়রানি, মামলা এবং গ্রেফতারের ভয় দেখানো হত। তাঁদের দাবি, “রাজনৈতিক প্রতিহিংসার পরিবেশে বহু সাধারণ কর্মীকে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়েছিল। এখন আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা চলছে।”
তবে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, আদালতের নির্দেশ ও আইন মেনেই পুরনো মামলাগুলির প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। রাজনৈতিক পরিচয় নয়, আইনের ভিত্তিতেই পদক্ষেপ করা হচ্ছে বলে দাবি পুলিশের।