ইসলামপুর, উত্তর দিনাজপুর: ধর্মঘটে সমর্থন জানানোর কারণে এক তপশিলি উপজাতি শিক্ষককে শারীরিকভাবে নিগ্রহ এবং জাতিগতভাবে অপমান করার গুরুতর অভিযোগ উঠল ইসলামপুর হাই স্কুলের হেডমাস্টার ও ম্যানেজিং কমিটির এক সদস্যের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় শুক্রবার ক্ষুব্ধ শিক্ষকরা ইসলামপুর থানার সামনে অবস্থান বিক্ষোভে সামিল হন এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
অভিযোগকারী শিক্ষক দীপক কুমার মাহাতো ইসলামপুর হাই স্কুলের সহকারী শিক্ষক। তিনি জানান, ধর্মঘটের সমর্থনে বৃহস্পতিবার তিনি স্কুলে অনুপস্থিত ছিলেন। শুক্রবার স্কুলে ফিরলে হেডমাস্টারের ঘরের সামনে ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা চলাকালীন হঠাৎই তাঁকে লক্ষ্য করে অকথ্য গালিগালাজ শুরু হয়। শুধু তাই নয়, তাঁর জাত তুলে চরম অপমানও করা হয় বলে অভিযোগ।
দীপকবাবুর দাবি, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য দেবাশীষ মজুমদার তাঁকে শুধু অপমানই করেননি, শারীরিকভাবেও হেনস্থা করেন। এই ঘটনায় হেডমাস্টার মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন আহমেদ অভিযুক্তকেই সমর্থন করেছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। পরে তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে যান।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই শিক্ষক মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। শিক্ষক নেতা গৌতম বর্মন বলেন, ধর্মঘট সমর্থন করা প্রতিটি শিক্ষকের গণতান্ত্রিক অধিকার। কিন্তু সেই কারণে একজন তপশিলি উপজাতি শিক্ষককে জাতিগতভাবে অপমান করা এবং গায়ে হাত তোলা কোনওভাবেই সহ্য করা হবে না। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আন্দোলন আরও তীব্র হবে।
এই দাবিতে বিপুল সংখ্যক শিক্ষক ইসলামপুর থানার সামনে অবস্থান বিক্ষোভে জড়ো হন এবং প্রশাসনের কাছে দ্রুত হস্তক্ষেপের আবেদন জানান। ঘটনাটি তপশিলি সম্প্রদায়ের মানুষদের মধ্যেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। পুলিশ অভিযোগ গ্রহণ করেছে বলে জানা গেছে, তবে এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।