নিউজডেস্ক:
ঘটনার শুরু কয়েক দিন আগে। কিন্তু সেই দৃশ্য যেন এখনো চোখে লেগে আছে—রোদের তাপে পুড়ে যাওয়া পথ, আর সেই পথে হাঁটছেন এক মানুষ। তাঁর কাঁধে কাপড়ে জড়ানো একটি কঙ্কাল। সেটি কোনো অজানা দেহ নয়—ওই কঙ্কাল তাঁর নিজের বোন কাকরা মুন্ডার।
প্রায় তিন কিলোমিটার পথ হেঁটে তিনি পৌঁছন ব্যাঙ্কে। উদ্দেশ্য একটাই—মৃত বোনের জমানো সামান্য কিছু টাকা তুলে আনা। কাকরা ছিলেন ইন্ডিয়ান ওভারসিস ব্যাঙ্কের গ্রাহক। মাস দু’য়েক আগে তাঁর মৃত্যু হয়। স্বামী ও সন্তানের আগেই মৃত্যু হওয়ায়, তাঁর সেই অল্প সঞ্চয়ের একমাত্র দাবিদার ছিলেন ভাই জিতু।
টাকার অঙ্কটাও খুব বড় কিছু নয়—১৯,৪০২ টাকার সামান্য বেশি। কিন্তু সেই টাকা তুলতে গিয়ে তাঁকে যে অমানবিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে, তা যেন সভ্য সমাজের মুখে চপেটাঘাত।
ব্যাঙ্কের নিয়ম, কাগজপত্র, প্রমাণ—সবকিছুর জটিলতায় আটকে যায় এক ভাইয়ের প্রাপ্য অধিকার। শেষমেশ যেন নিজের কথার সত্যতা প্রমাণ করতেই তিনি কাঁধে তুলে নেন বোনের কঙ্কাল। সেই কঙ্কালই হয়ে ওঠে তাঁর সবচেয়ে বড় ‘ডকুমেন্ট’।
এই ঘটনা শুধু এক ব্যক্তির দুর্ভোগ নয়, এটি আমাদের প্রশাসনিক ব্যবস্থার এক নির্মম প্রতিচ্ছবি—যেখানে একজন দরিদ্র মানুষের মানবিকতা, সম্মান, শোক—সবকিছুই তুচ্ছ হয়ে যায় নিয়মের কাছে।
একটা প্রশ্ন থেকেই যায়—
১৯ হাজার টাকার জন্য কি সত্যিই একজন মানুষকে তার বোনের কঙ্কাল কাঁধে নিয়ে ঘুরতে হয়?

By nb24x7

দিনদুনিয়ার খাসখবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *