SIR নিয়ে যখন রাজ্যজুড়ে বিতর্কের পারদ চড়ছে, ঠিক তখনই উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ায় সামনে এল আরও ভয়ঙ্কর প্রতারণার ঘটনা। পাঁচ কন্যার জননী অঞ্জলি বিশ্বাসের অভিযোগ—তাঁরই চতুর্থ জামাই, স্থানীয় তৃণমূল নেতা অমৃত বিশ্বাস বহু আগেই সরকারি নথিতে তাঁকে ‘মা’ দেখিয়ে গোপনে নিজের নাম তুলেছে ভোটার তালিকায়।
SIR–এর ফর্ম হাতে পাওয়ার পরেই সামনে আসে এই গোপন জালিয়াতির কেস।
বুধবার বিষয়টি জানার পর চোপড়া বিডিও অফিসে অভিযোগ দায়ের করতে ছুটে যান অঞ্জলি দেবী। তাঁর দাবি, “অনেকদিন ধরেই ভয় দেখায়। কিন্তু এত বড় প্রতারণা যে করবে, ভাবিনি। এখন প্রাণভয়ে দিন কাটছে।”
জমি দখলের কুমতলব?
অভিযোগ, অঞ্জলিদেবীর দেওয়া জমিতেই শ্বশুরবাড়ির পাশে থাকেন অমৃত বিশ্বাস ও তাঁর স্ত্রী ললিতা বিশ্বাস, যিনি চোপড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্যা। স্থানীয়রা জানান, সম্পত্তির লোভেই নাকি এই জালিয়াতি।
কুমারটোলা গ্রামে পৌঁছতেই উত্তেজনা ছড়ায়। সাংবাদিকরা পৌঁছালে ললিতা বিশ্বাস প্রথমে ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকি দেন বলে অভিযোগ। তবে ক্যামেরা অন হতেই আচমকাই সুর বদলে দুপুর দুটোয় পার্টি অফিসে দেখা করতে বলেন। এমনকি সাংবাদিকদের সামনে বিধায়কের নামও করে ভয় দেখানোর চেষ্টা করেন।
বৃদ্ধা আতঙ্কে, সামনে আইনি লড়াই?
SIR–এর মাধ্যমে এই তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় নেমে এসেছে তীব্র চাঞ্চল্য। এখন প্রশ্ন—
SIR-এর প্রক্রিয়া কি অঞ্জলি দেবীর আতঙ্ক দূর করবে?
নাকি পুরনো জালিয়াতির দংশনে তাঁকে আরও দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে হবে?
ঘটনার তদন্ত শুরু করতেই স্থানীয় প্রশাসনের কাছে দাবি তুলছে গ্রামবাসীরা।