নিউজডেস্ক :
উত্তর দিনাজপুর জেলার গোয়ালপোখোর ও চাকুলিয়ার প্রাক্তন ফরওয়ার্ড ব্লক বিধায়ক (বর্তমানে কংগ্রেস নেতা) আলি ইমরান রামজ ওরফে ভিক্টরের বিরুদ্ধে বধূ নির্যাতন ও খুনের চেষ্টার গুরুতর অভিযোগ তুললেন তাঁর স্ত্রী প্রিয়াঞ্জলি নিয়োগী। রবিবার কলকাতা প্রেস ক্লাব-এ সাংবাদিক সম্মেলন করে তিনি একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগ প্রকাশ্যে আনেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র শোরগোল শুরু হয়েছে।
প্রিয়াঞ্জলির দাবি, ২০১০ সালে প্রেমের বিয়ের পর থেকেই ভিক্টরের ‘বদমেজাজি’ স্বভাব সামনে আসে। সামান্য কারণেও মারধর করা হতো বলে অভিযোগ। এমনকি গর্ভাবস্থায় পেটে লাথি মারার ফলে তাঁর সন্তান নষ্ট হয় বলেও তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, স্থানীয় ভোটব্যাঙ্ক ও জনমতের কথা বলে তাঁকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতে এবং পুনরায় ‘নিকাহ’ করতে বাধ্য করা হয়। এছাড়া দিদিমার দেওয়া দুটি ফ্ল্যাট ও নগদ ১৬ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং তাঁকে ঘরছাড়া করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন প্রিয়াঞ্জলি।
সাংবাদিক বৈঠকে তিনি দুটি সিসিটিভি ফুটেজ দেখান, যেখানে তাঁকে লাথি মারার দৃশ্য রয়েছে বলে দাবি করেন। যদিও ওই ভিডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করেনি সংবাদমাধ্যম।
প্রিয়াঞ্জলির অভিযোগ, ভিক্টর ও তাঁর মা তালাৎ সুলতানা মিলে তাঁকে ফিনাইল খাইয়ে মারার চেষ্টা করেন। বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা তুলে নেওয়ার জন্য ছুরি নিয়ে তাড়া করার ঘটনাও উল্লেখ করেন তিনি। তালাৎ সুলতানার বিরুদ্ধেও নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ভিক্টর। তাঁর দাবি, তিন বছর আগেই তাঁদের আলাদা থাকা শুরু হয়েছে এবং ডিভোর্সের মামলা করেছেন প্রিয়াঞ্জলি নিজেই। সামনে নির্বাচন থাকায় তাঁর ভাবমূর্তি নষ্ট করতে রাজনৈতিক চক্রান্ত ও ব্ল্যাকমেল করা হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
বর্তমানে প্রিয়াঞ্জলি ভাড়া বাড়িতে থাকছেন এবং পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন। অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের এই পর্বে আইন ও রাজনীতির টানাপোড়েন কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।