তিন তারিখ সুপ্রিম কোর্ট ২৬ হাজার চাকরি বাতিলের রায়দান করে। তারপরেই রাজ্য জুড়ে আন্দোলনে নামে সদ্য চাকরি হারা যোগ্যশিক্ষকেরা। তারই মাঝে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে সদ্য চাকরি হারাদের নিয়ে কথা বলেন। একাধিক বাক্যালাপের পর তিনি চাকুরি হারাদের ভলেন্টিয়ার সার্ভিস দিতে বলেন।
এরপরেই হাজার হাজার চাকুরী হারা বলতে শুরু করেন সরকারের কারনে আমাদের চাকরি হারাতে হয়েছে। আমরা আমাদের চাকরি ফেরত চাই।
সব দিকে যখন চাকরি চুড়ি নিয়ে ব্যাপক আন্দোলন শুরু হয় ঠিক তখন ssc ঘোটলায় আরো চার মূর্তির নাম উঠে আসে সিবিআই এর তদন্তে। এরা হলেন স্কুল সার্ভিস কমিশনের প্রাক্তন পরামর্শদাতা শান্তিপ্রসাদ সিনহা, প্রাক্তন চেয়ারম্যান অশোক সাহা, প্রাক্তন চেয়ারম্যান সুবীরেশ ভট্টাচার্য ও
মধ্যশিক্ষা পর্ষদের প্রাক্তন সভাপতি কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায়।
নবম-দশম শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি সংক্রান্ত চার্জশিটে সিবিআই জানিয়েছে, এই দুর্নীতির মূল হোতা ছিলেন শান্তিপ্রসাদ সিনহা। ২০২২ সালে তিনি গ্রেফতার হন। তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অযোগ্যদের জন্য ভুয়ো সুপারিশপত্র তৈরি করা, অযোগ্যদের তথ্য সংগ্রহ ও তাদের থেকে টাকা তোলার জন্য ‘মিডলম্যান’ নিয়োগ করা এবং ওএমআর শিটের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নষ্ট করার মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
শান্তিপ্রসাদের মতোই এই দুর্নীতির ষড়যন্ত্রে সমানভাবে জড়িত ছিলেন এসএসসির প্রাক্তন চেয়ারম্যান অশোক সাহা। তার বিরুদ্ধে উত্তরপত্র সংক্রান্ত বহু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নষ্ট করার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও, ১৮৩টি জাল সুপারিশপত্র ও নিয়োগপত্রে অনুমোদন দেওয়া এবং চাকরির দাবিতে আন্দোলন করা চারজন প্রার্থীকে অবৈধভাবে নিয়োগের ক্ষেত্রে শান্তিপ্রসাদকে সাহায্য করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এসএসসির আরেক প্রাক্তন চেয়ারম্যান সুবীরেশ ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে চাকরিপ্রার্থীদের ওএমআর শিট তথা উত্তরপত্রের তথ্য নষ্ট করার অভিযোগ এনেছে সিবিআই। অভিযোগ, তার নির্দেশেই কমিশনের সার্ভারে ওএমআরের নম্বর বদলানোর কাজ হয়েছিল। শুধু তাই নয়, ওএমআর শিট মূল্যায়নকারী সংস্থা নাইসার কাছ থেকে নম্বর আসার পর অযোগ্যদের নম্বর বাড়িয়ে দেওয়ার মৌখিক নির্দেশ দিতেন এবং নম্বর পরিবর্তনের জন্য ইন্টারভিউ বোর্ডের সদস্যদের প্রভাবিত করতেন সুবীরেশ ভট্টাচার্য।
এসএসসির এই তিন উচ্চপদস্থ কর্তার পাশাপাশি নিয়োগ দুর্নীতির ষড়যন্ত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন মধ্যশিক্ষা পর্ষদের প্রাক্তন সভাপতি কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায়। সিবিআইয়ের দাবি, অযোগ্য প্রার্থীদের চাকরি পাইয়ে দেওয়ার জন্য শান্তিপ্রসাদের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করেছিলেন তিনি। কল্যাণময় ১৮৩ জন অযোগ্য চাকরিপ্রার্থীকে জাল নিয়োগপত্র দেন। এছাড়াও, অযোগ্যদের নামে যে সুপারিশপত্রগুলি দেওয়া হয়েছিল, তিন মাসের মধ্যেই তার ভিত্তিতে সকলের কাছে নিয়োগপত্র পৌঁছে দিয়েছিলেন মধ্যশিক্ষা পর্ষদের এই প্রাক্তন সভাপতি।