
রবি আড্ডায় সাধন দাস
সত্যি মিথ্যে জড়িয়ে
ইতিহাসে আমাকে
বিকৃত করতেই পারো।
ধুলোয় পিষে মারতেই পারো।
তবু পায়ের ধুলো মাথায় চড়ার মতো
মাথা চাড়া দিচ্ছি আমি।
মনমরা লাগছে!
আমার স্পর্ধা কি দুশ্চিন্তায় ফেলেছে?
হ্যাঁ, আমার হাঁটাচলা একটু
তেলখনি মালিকের মতোই
তেল-তোলা পাম্প যেনো আমার ঘরেই বসানো।
ঠিক চাঁদের মতো
ঠিক সূর্যের মতো
সমুদ্রে ঠিক জোয়ারের মতো
আশা যেমন উঠে দাঁড়ায়
ঠিক তেমনি মাথা চাড়া দিচ্ছি আমি।
আমায় পদানত দেখতে চাও?
আমার নুয়ে পড়া মাথা, নেমে থাকা চোখ,
চোখের জলের মতো খসে পড়া কাঁধ,
কান্নায় ভেঙে পড়া বুক?
না, সে গুড়ে বালি।
আমার ঠেলে-উঠে দাঁড়িয়ে যাওয়া
ভয় দেখাচ্ছে তোমাকে।
আপদ ভাবছো?
ভাবতেই পারো,
কারণ এতো উজ্জ্বল আমি হাসি,
মনে হয়, সোনায় বাঁধানো দাঁত।
যেনো সোনার খনি আছে আমার উঠোনে।
বাক্যবাণে ভেদ করতেই পারো?
চোখের আগুনে ভস্ম,
ঘেণ্ণায় ডুবিয়ে মারলেও
ঝড়ের ঘূর্ণি হয়ে ঠেলে উঠবোই-
মাথা চাড়া দিচ্ছি আমি।
আমাদের মিলনে কি কোহিনুর জ্বলে ওঠে?
বিছানায় সুখ ঝলমল করে?
আমাদের প্রেমের ক্ষমতা কি
তোমাদের হেয় করে?
হিংসা হয়?
তোদের হিংসার উপরে আমি
তাণ্ডব নাচি।
তোদের মিথ্যে ইতিহাস ছিঁড়ে
আমি জেগে উঠি।
অন্যায় শিকল ভেঙে
জেগে উঠি।
তোদের লম্ফঝম্প ডুবিয়ে দিতে-
আমি এক সমুদ্র।
ফুলে ফেঁপে উঠছি জোয়ারে
জলস্তম্ভ উঠছি।
ভয়াল রাত্রি থাকলো পায়ের নীচে।
জেগে উঠছি আমি।
অত্যাশ্চর্য এক ঝকঝকে ভোরে
জেগে উঠছি।
পূর্বপুরুষের ঐশ্বর্য অবদান নিয়ে
জেগে উঠছি।
যতো চাষা মজুরের আশা আকাঙ্খা নিয়ে
জেগে উঠছি।
আমি জেগে উঠছি
জেগে উঠছি…
কবিতাঃ স্টিল আই রাইজ
কবিঃ মায়া এ্যাঞ্জেল্যু
বিনির্মাণঃ সাধন দাস