নিউজডেস্ক:
দীর্ঘ ২১ মাসের অন্ধকার কাটিয়ে অবশেষে আলোর মুখ দেখল চোপড়ার দাসপাড়া এলাকার চন্দন চা বাগান। ঈদের ঠিক আগেই রুটিরুজি ফিরে পেলেন প্রায় এক হাজার শ্রমিক।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই বদলে যেতে শুরু করে বাগানের চেনা ছবি। প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম হাতে নিয়ে হাসিমুখে কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন স্থায়ী শ্রমিকরা। হারানো কর্মসংস্থান ফিরে পাওয়ার আনন্দ ছাপিয়ে গেল গত দুই বছরের দুঃখ-কষ্টের স্মৃতিকে।
তবে বাগান খুললেও কারখানার চিমনি এখনই জ্বলছে না। সংগৃহীত কাঁচা পাতা বাইরে বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘ অচলাবস্থার কারণে বড়সড় আর্থিক সংকটে থাকলেও শ্রমিকদের পরিশ্রমে বাগানটি আবার স্বাবলম্বী হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৬ জুন হঠাৎ ‘সাসপেনশন অফ ওয়ার্ক’ নোটিশ জারি করে কর্তৃপক্ষ। রাতারাতি কর্মহীন হয়ে পড়েন প্রায় এক হাজার শ্রমিক। এলাকার অর্থনীতি কার্যত স্তব্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর গত ৯ মার্চ মাটিগাড়ায় তরাই ইন্ডিয়ান প্ল্যান্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (টিপা) কনফারেন্স হলে দীর্ঘ আলোচনার পর বাগান খোলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়।
বাগানের সাব-স্টাফ শমসের আলী জানান, শ্রমিকরা অত্যন্ত উৎসাহ নিয়ে কাজে ফিরেছেন। বাগান চালু হওয়ায় শুধু শ্রমিক পরিবার নয়, পুরো দাসপাড়া এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্যেও জোয়ার আসবে বলে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন।
শ্রমিক জহির আনসার বলেন, “বিগত দু’বছর কীভাবে দিন কেটেছে তা আমরাই জানি। ঈদের মুখে কাজ ফিরে পাওয়া আমাদের কাছে সেরা পাওনা।” শ্রমিকরা এই কর্মসংস্থানকে ‘ঈদ বোনাস’-এর চেয়েও বড় প্রাপ্তি বলে মনে করছেন।
শ্রমিকদের অদম্য মনোবল আর কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছায় চন্দন চা বাগানের সবুজ পাতায় এখন নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন বুনছে হাজারো পরিবার।