তিন সন্তানকে রেখে তিনবছর আগে চলে গিয়েছে স্বামী। তিন সন্তান ও বৃদ্ধা মাকে নিয়ে কোনমতে জীবনধারণ করছিলেন। ২০১৮সালে আবাস যোজনায় নাম নথিভুক্ত করলেও তালিকায় নাম আসেনি। ফলে মাটির একচিলতে ঘরে বসবাসে সমস্যায় পড়েছিলেন। এরপরই ঘরের আর্জি নিয়ে ব্লক প্রশাসনের দ্বারস্থ হলে অসহায় ওই মহিলাকে আবাস যোজনায় ঘরের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়। অপরদিকে তার জীবন সংগ্রামের করুণ কাহিনী জানবার পরেই ওই মহিলা ও তার পরিবারের জীবনধারণে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন ব্লক সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক। উত্তর দিনাজপুর জেলার গোয়ালপোখর ২ ব্লকের সাহাপুর ১ পঞ্চায়েতের প্রত্যন্ত এলাকা মাদ্রাসা সাহাপুর অঞ্চল।।চাহিদামতো টাকা দিতে না পারায় এলাকার বাসিন্দা তাজফুল খাতুনের স্বামী বছর তিনেক আগে তিন সন্তান সমেত তাকে ফেলে রেখে অন্যত্র চলে যায়। তারপর তাজফুল ফিরে আসে মায়ের কাছে। যদিও তিন সন্তান ,বৃদ্ধা মা সহ পাঁচজনের জীবন নির্বাহে অর্থের যোগান করতে গিয়ে আতান্তরে পড়ে সে। দিনমজুরি , পরিচারিকার কাজ করে টাকার যোগান করলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা নিতান্তই সামান্য। ফলে সাহায্যের আশায় ব্লক প্রশাসনের দ্বারস্থ হয় তাজফুল। তার প্রয়োজন শুনে এগিয়ে আসেন ব্লক প্রশাসনের আধিকারিকেরা। তাকে লক্ষ্মী ভান্ডার প্রকল্পে ভাতার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়। পাশাপাশি ব্লক দফতর থেকে তাকে চাল প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়। এছাড়াও তাজফুলের বড় সন্তানের পড়াশোনা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয়তায় সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন ব্লকের বিডিও সুজয় ধর। দরিদ্র এই পরিবারটিকে গত একবছর ধরে তার সাধ্যমত সহায়তা প্রদান করে আসছেন
সুজয় বাবু। সুজয়বাবুর এই মানবিক ভূমিকায় আপ্লুত অসহায় তাজফুল। প্রশাসনের সহায়তা পেলে তিন সন্তানকে লেখাপড়া শিখিয়ে ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার আপ্রাণ চেষ্টা করবেন বলে প্রতিশ্রুতি তার।
অন্যদিকে প্রশাসনিক কর্তার এই মানবিক ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা স্থানীয়দের। অসহায় ওই মহিলা আবাস যোজনার ঘরের জন্যে পঞ্চায়েতের কাছে বহুবার দরবার করে। পঞ্চায়েতের তরফেই তাকে ব্লক দফতরে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়। পঞ্চায়েতের আবেদনে সাড়া দিয়ে অসহায় ওই মহিলাকে সহায়তা করার জন্যে বিডিওর প্রতি ধন্যবাদজ্ঞাপন করেছেন সাহাপুর ১ পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ।