চোপড়া, উত্তর দিনাজপুর: মোবাইল চুরি করতে গিয়ে স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়লেন এক বাংলাদেশি যুবক। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর দিনাজপুর জেলার চোপড়া ব্লকের কালাগছ বাজারে। প্রথম দেখায় সাধারণ চুরির ঘটনা মনে হলেও পুলিশি জেরায় বেরিয়ে এসেছে সীমান্ত পেরিয়ে চুরি করার এক চাঞ্চল্যকর ‘আন্তর্জাতিক ব্যবসা’র কাহিনি।

যে ভাবে ধরা পরে সামিম:

বৃহস্পতিবার কালাগছ বাজারের একটি দোকান থেকে সুযোগ বুঝে মোবাইল ফোন তুলে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন ওই যুবক। স্থানীয়দের সন্দেহ হওয়ায় তাৎক্ষণিক ধাওয়া করে তাকে ধরে ফেলা হয়। অভিযোগ, হাতেনাতে ধরার পর স্থানীয়রা তার হাত-পা বেঁধে রাখেন এবং চোপড়া থানায় খবর দেন। পরে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
জেরায় খুলল ‘আন্তর্জাতিক ব্যবসা’র রহস্য
থানায় জিজ্ঞাসাবাদে ধৃত যুবক নিজের নাম সামিম বলে পরিচয় দেন। তার বাড়ি বাংলাদেশের পঞ্চগড় জেলার কানকাটি এলাকায়। জেরায় সামিম স্বীকার করেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তের ধুমডাঙি এলাকার হাপতিয়া নদী পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করতেন। উদ্দেশ্য ছিল ছোটখাটো চুরি সেরে আবার বাংলাদেশে ফিরে যাওয়া। নিজের ভাষায় এটিকেই তিনি ‘আন্তর্জাতিক ব্যবসা’ বলে বর্ণনা করেছেন।
সামিম আরও জানান, সম্প্রতি ভারত-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপোড়েনের কারণে তার এই ‘ব্যবসা’ কিছুটা মন্দা পড়েছিল। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় ফের ভারতে আসা শুরু করেছিলেন তিনি।

পুলিশের সামনে দুই ‘শর্ত’:

সব স্বীকার করেও পুলিশের সামনে দুটি শর্ত রাখেন সামিম। প্রথমত, তাকে যেন মারধর বা শারীরিক নির্যাতন করা না হয়। দ্বিতীয়ত, ভারতে থাকার সময় কোথায় আশ্রয় নিতেন সে বিষয়ে যেন জিজ্ঞাসাবাদ না করা হয়। ধৃতের এই আত্মবিশ্বাসী মনোভাব পুলিশকেও অবাক করেছে বলে সূত্রের খবর।
আদালতে পেশ, পুলিশি হেফাজতের আবেদন
শুক্রবার সামিমকে ইসলামপুর মহকুমা আদালতে হাজির করা হয়। চোপড়া থানার পক্ষ থেকে সাত দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানানো হয়েছে। আদালতে যাওয়ার সময় সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনেও তিনি বেশ স্বাভাবিকভাবে কথা বলেন।
উঠছে প্রশ্ন, বিপাকে প্রশাসন

একজন বিদেশি নাগরিক বারবার সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে এসে অপরাধ করে ফিরে যাচ্ছেন — এই দাবি সামনে আসায় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিএসএফ-এর নজর এড়িয়ে এমন ঘটনা বারবার ঘটার বিষয়টি প্রশাসনের জন্যও যথেষ্ট অস্বস্তিকর বলে মনে করছেন স্থানীয় মহল।

কালাগছ বাজারের এই মোবাইল চুরির ঘটনা এখন আর শুধু একটি সাধারণ চুরির মামলা নয়, বরং সীমান্তের ফাঁক গলে চলা এক ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্রে’র সম্ভাব্য ইঙ্গিত হিসেবে গোটা এলাকায় ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।

By nb24x7

দিনদুনিয়ার খাসখবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *