নিউজডেস্ক: সন্ত্রাসে অর্থ জোগানের মামলায় কাশ্মীরি বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা শবির শাহকে দীর্ঘদিন ধরে আটক রাখার যৌক্তিকতা নিয়ে এবার কড়া অবস্থান নিল সুপ্রিম কোর্ট। দেশের সর্বোচ্চ আদালত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে—শুধু অভিযোগের ভিত্তিতে নয়, শবির শাহকে হেফাজতে রাখার পক্ষে “হার্ড এভিডেন্স” বা অকাট্য প্রমাণ দেখাতে হবে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)-কে।
শুনানিকালে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা প্রশ্ন তোলেন, তদন্ত সংস্থার কাছে এমন কী নির্দিষ্ট ও শক্ত প্রমাণ রয়েছে, যার ভিত্তিতে বছরের পর বছর একজন অভিযুক্তকে আটক রাখা যায়। আদালতের পর্যবেক্ষণ, আইনের শাসনে কাউকে অনির্দিষ্টকাল ধরে কারাবন্দি করে রাখা যায় না, যদি না তার বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট ও প্রত্যক্ষ প্রমাণ পেশ করা হয়।
NIA-র দাবি, শবির শাহের বিরুদ্ধে বিদেশ থেকে বেআইনি উপায়ে অর্থ সংগ্রহ করে তা কাশ্মীরে বিচ্ছিন্নতাবাদী কার্যকলাপে ব্যবহার করার অভিযোগ রয়েছে। এই মামলায় তাঁকে ২০১৭ সাল থেকে বিভিন্ন ধারায় গ্রেফতার ও বিচারাধীন অবস্থায় রাখা হয়েছে। তবে প্রতিরক্ষা পক্ষের আইনজীবীরা আদালতে যুক্তি দেন, এত বছর ধরে মামলা চললেও এখনও পর্যন্ত কোনও চূড়ান্ত ও জোরালো প্রমাণ সামনে আনা হয়নি।
এই প্রেক্ষাপটে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, জাতীয় নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ হলেও ব্যক্তিস্বাধীনতাও সমানভাবে সংবিধানস্বীকৃত অধিকার। আদালত NIA-কে নির্দেশ দিয়েছে, তারা যেন স্পষ্টভাবে জানায়—শবির শাহের বিরুদ্ধে ঠিক কী ধরনের প্রমাণ রয়েছে এবং সেগুলি কীভাবে আইনি মানদণ্ড পূরণ করে।
এই পর্যবেক্ষণকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও মানবাধিকার মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকের মতে, এই মন্তব্য তদন্তকারী সংস্থাগুলির ভূমিকা ও দীর্ঘমেয়াদি বিচারাধীন বন্দিত্ব নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নজির স্থাপন করতে পারে।

By nb24x7

দিনদুনিয়ার খাসখবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *