
রবি আড্ডায় শ্যামলী সেনগুপ্ত
রেলগাড়ির সঙ্গে চায়ের কেমন একটা
গৃহীযোগী সম্পর্ক ।
আলসেমি কাটানোর জন্য
নিতেই পার এক কাপ
অথচ হার্ড বোর্ড না হলে
ঘরে ফেরার গল্প লেখা হয়ে যায়।
চলকে পড়ে তোমার কোলের ওপর
ওই অনেকটা তেমন
যখন প্রথমবার চা-বাগান দেখে ভেবেছিলে
রেলট্র্যাকের দু’ধারে কার্পেট…
নতুন সবকিছুই বেশি বেশি ভালো লাগে।
এই যে এখন নেতাজী কেবিনে বসে
দিব্যি উগরে দিচ্ছ উপলব্ধির উপল
এখানেও তো প্রথম চা-পান
এক লেপ-সরানো ভোরে মিরিক যাওয়ার পথে…
এই কেবিনে তোমার, আমার, আমাদের
অনেক গল্প লেখা আছে…
আমি সুভাষ বলছির আড়াল থেকে
তারা মাঝে মাঝে উঁকি দেয়…
তুমি ও তোমরা চা-পানের ছবি দিলেই
মনকেমন করা এক টান বের করে নিতে চায়
গেরস্থালি চায়ের হাতলভাঙা কাপ থেকে…
ওই একটু চলটা ওঠা কাপ
অথবা পাতি রাখবে বলে
যে ঝোলাটি টেনে নিয়ে বেরিয়ে পড়েছ
সকাল সকাল
সেখানে কিছু টাইপো থেকে যায়
তোমার আমার রিং-টোনে
টিউন ঠিক হতে চায় না …
একটা ভাঙচুর
সীমান্ত তৈরি করে দেয়
তবু…
সম্পর্কে লেপ্টে যায়
চায়ের কাপ
ভিজে পাতার সুঘ্রাণ
তোমার আঙুল
আর আমার ঠোঁট
অদ্ভুত এক মড্যুলেশন
প্লাকিং,সর্টিং এবং টি-পটের
সময় ও উত্তাপ পরিবাহিতা
জমা হয় রেলগাড়ির ঘোর থেকে
ঘরোয়া চায়ের ফ্লেভারে…